রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন
আবদুল্লাহ আল সাজিন:
প্রাণের প্রিয় নবীজির দেশে:
মহান আল্লাহ তা’আলার অশেষ রহমতে সপরিবারে পবিত্র ওমরা হজ্জ পালন করতে গিয়েছিলাম আলহামদুলিল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ।আমরা প্রথমে বিমান বন্দর থেকে পবিত্র নগরী মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
মদিনা শরিফে প্রবেশ করলে প্রথমেই শান্তি ও আধ্যাত্মিকতার এক বিশেষ অনুভূতি সৃষ্টি হয়। শহরটি পরিচ্ছন্ন, সুসজ্জিত এবং অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। রাস্তার দুই পাশে খেজুর গাছ, আধুনিক ভবন এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার সম্মিলন দেখা যায়।সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং শান্তির দৃশ্য হলো মসজিদে নববীর মিনার ও সবুজ গম্বুজ—যা মহানবী (সা.)-এর রওজা শরিফের ওপর অবস্থিত।বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লক্ষ লক্ষ মুসলমান একসাথে নামাজ আদায় করেন, তখন এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। এই মুহূর্তে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভালোবাসা এবং আত্মসমর্পণের এক অপূর্ব চিত্র ফুটে ওঠে।মসজিদে নববীর পবিত্র পরিবেশে দাঁড়িয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করা এক অনন্য অনুভূতি। মনে হয় যেন এক বিশাল পরিবার একই ইমামের পেছনে একসাথে আল্লাহর দরবারে বিনয়ীভাবে দাঁড়িয়ে আছে।যখন তাকবির ধ্বনিতে পুরো মসজিদ মুখরিত হয়, যখন লাখো মানুষ একসাথে “আমিন” বলে, তখন হৃদয়ে গভীর আবেগের সঞ্চার হয়। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন, আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনুভূতি হৃদয়ে জাগ্রত হয়। নামাজ আদায় করলে হাজারগুণ বেশি সওয়াবের প্রতিশ্রুতি আছে। তাই প্রতিটি সিজদা আরও গভীর হয়, প্রতিটি দোয়া আরও আন্তরিক হয়ে ওঠে।
১.মদিনায় প্রবেশের সময়:
★রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা।
★মদিনার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করা।
২.মসজিদে নববীতে আমল:
★প্রথমেই তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজ পড়া।
★রওজা শরিফ জিয়ারত করা (অত্যন্ত বিনয় ও শান্তভাবে)।
★রিয়াজুল জান্নাহতে নামাজ ও দোয়া করা।
★বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা।
৩.অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান জিয়ারত:
★কুবা মসজিদ: এখানে দুই রাকাত নামাজ পড়লে এক উমরার সমান সওয়াব।
★কেবলাতাইন: দুই রাকাত নামাজ আদায় করা।
★উহুদ পর্বত: শহীদ সাহাবিদের কবর জিয়ারত করা ও দোয়া করা।
★জান্নাতুল বাকি কবরস্থান: রাসূল (সা.)-এর পরিবারের সদস্য ও সাহাবিদের কবর পরিদর্শন করা।
আল্লাহর রহমতে আমরা (সপরিবারে) নিয়ম গুলাে পালন করতে সক্ষম হয়েছি,”আলহামদুলিল্লাহ”।
পবিত্র নগরী মদিনাতে, আমরা যখন জিন পাহাড়ে গিয়েছিলাম, তখন সেখানে দাঁড়িয়ে অনুভব করেছিলাম ইসলামের ইতিহাসের এক চিরস্থায়ী স্মৃতি।পাহাড়ের উপর থেকে মদিনার দৃষ্টি উপভোগ করা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল।
মসজিদে নববী থেকে ফজরের সালাত আদায় করে এবং রাসুলের রওজা জিয়ারত শেষে বিদায় নিলাম।হোটেল থেকে ওমরার নিয়তে ইহরাম পরিধান করে শান্তির নগরী পবিত্র মদিনা ছেড়ে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।মদিনা থেকে মক্কা যাওয়ার পথে মীকাতে দুই রাকাত সালাত আদায় করে তালবিয়া পাঠ করতে করতে পবিত্র মক্কাতে পৌঁছে গেলাম।পবিত্র নগরী মক্কায় প্রবেশ করলে হৃদয়ে শান্তির অনুভূতি জাগে।কাবা শরিফ প্রথমবার দেখা জীবনের অন্যতম আবেগময় মুহূর্ত।
হাজারো মুসলমান তওয়াফে ব্যস্ত সাথে আমরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাওয়াফ শুরু করলাম, “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল-হামদা ওয়ান-নিঅ’মাতা লাকা ওয়াল-মুলক,লা শারীকা লাক” (“হে আল্লাহ! আমি হাজির, আমি হাজির! তোমার কোনো অংশীদার নেই, আমি হাজির! নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব তোমারই, এবং তোমার কোনো অংশীদার নেই।”)ধ্বনিতে বাতাস মুখরিত, হৃদয় আল্লাহর ভালোবাসায় ভরে ওঠে। হজ ও ওমরার সময় তালবিয়া পাঠ করা সুন্নত এবং এটি ইহরাম বাঁধার পর থেকে বারবার পাঠ করতে হয়, বিশেষ করে তাওয়াফ ও সাঈ শুরুর আগে।
১. মক্কায় প্রবেশের সময়:
★তাওয়াফ ও সাঈর নিয়ত করা।
★কাবা শরিফ দেখার সময় দোয়া করা (যেকোনো দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ মুহূর্ত)।
২. কাবা শরিফে পৌঁছে করণীয়:
★প্রথমে তাওয়াফ করা (কাবার চারপাশে সাতবার ঘোরা)।
★মাকামে ইবরাহিমে দুই রাকাত নামাজ পড়া।
★সাফা-মারওয়াতে সাঈ করা (সাতবার যাওয়া-আসা)।
★জমজমের পানি পান করা ও দোয়া করা।
৩. অন্যান্য ইবাদত ও জিয়ারত:
★মসজিদুল হারামে নিয়মিত নামাজ পড়া।
★আরাফাত, মিনা ও মুজদালিফার মতো পবিত্র স্থান জিয়ারত করা।
★বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দোয়া করা।
আল্লাহর রহমতে আমরা (সপরিবারে) নিয়ম গুলাে পালন করতে সক্ষম হয়েছি,”আলহামদুলিল্লাহ”।
পবিত্র নগরী মক্কা থেকে তায়েফের পথে যাত্রা আমরা দেখি প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য এবং পাহাড়ি দৃশ্য চোখে পড়ে, তা ছিল একটি অনন্য অভিজ্ঞতা।তায়েফে ইসলামের ঐতিহাসিক স্থান গুলো দেখার সুযোগ হয়েছে আমাদের আলহামদুলিল্লাহ।
আমরা দুপুরবেলা পবিত্র নগরী মক্কা থেকে জেদ্দা ভ্রমণ বের হলাম।পবিত্র নগরী মক্কা থেকে জেদ্দার দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার।আমরা বিকেলের দিকে জেদ্দায় আরব সাগরে পৌছালাম।জেদ্দায় আরব সাগরের দিকে তাকালে এক নিস্তব্ধ, শান্ত পরিবেশের মধ্যে সেই সমুদ্রের সৌন্দর্য আর আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা সৃষ্টি হয়েছিল। সমুদ্রের তরঙ্গ, বাতাসের শান্তি – এসব মুহূর্তগুলো ছিল একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।।
মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে তাঁর পবিত্র ঘর কাবা শরিফের সামনে হাজির হওয়ার তাওফিক দান করুন। যারা এখনো হজ বা ওমরার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেননি,তাদের জন্য সহজ করে দিন, ইনশাল্লাহ “আমিন”।
আপনার মন্তব্য লিখুন